Nocturn PlayNOCTURN PLAY
হোম › রিভিউ › The Spindle of the Fates রিভিউ

The Spindle of the Fates রিভিউ: ভাগ্যের সুতো আপনার হাতে

একটা গোল বোর্ড, বারোটা রশ্মি, আর তিন বোন যাঁরা ঠিক করেন সুতো কতদূর চলবে। ৫ অক্টোবরে আসা এই খেলা রিলের অভ্যাস ভেঙে দেয়; এখানে আমরা তার প্রতিটা অংশ খুলে সাজিয়েছি।

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬ · হালনাগাদ: ৫ অক্টোবর ২০২৬ · Nocturn Play

The Spindle of the Fates হলো Nocturn Play-এর গোল বোর্ডের খেলা; স্টুডিও এটি সামনে আনে ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ। এতে রিল নেই, বরং একটা সোনালি টাকুর চারপাশে বারো ঘরের চারটে চাকা ঘোরে, আর কেন্দ্র থেকে বেরোনো কোনো রশ্মিতে তিন বা চারটে এক রকম চিহ্ন জমলে পুরস্কার। প্রতিটা জয় একটা সোনালি সুতো টানে যা পরের জয়কে গুণ করে, আর বুড়ি অ্যাট্রোপোস যখন কাঁচি চালান, সেই ফ্রি স্পিনে ছোট চিহ্নগুলো খেলা থেকে বাদ পড়ে।

সমুদ্রতীরের মন্দির আর তিন মোইরা

সূর্য সমুদ্রে নামছে, আকাশ বেগুনি থেকে কমলা হয়ে যাচ্ছে, আর পাথুরে তীরে দাঁড়িয়ে সাদা মার্বেলের এক গ্রিক মন্দির। শুরুর বোতাম আপনাকে ভেতরে ডাকে, আর উপশিরোনাম «ভাগ্যের মন্দির» বুঝিয়ে দেয় আপনি কার বাড়িতে। গ্রিক কাহিনির তিন মোইরা এখানে থাকেন, সেই তিন বোন যাঁরা প্রতিটা জীবনের সুতো বোনেন, মাপেন আর কাটেন।

ক্লোথো তরুণী, সাদা আর বেগুনি কাপড়ে, সোনালি চরকায় সুতো পাকান। নীল ঘোমটার ল্যাকেসিস মাপের কাজ করেন, তাঁর লাঠি সোনার, আর খেলায় কোনো চাকা দ্বিতীয়বার চালানোর দায়িত্ব তাঁরই। অ্যাট্রোপোস সবার বড়, বেগুনি হুডের নিচে বলিরেখাভরা মুখ, হাতে সেই কাঁচি যার হাত থেকে কেউ রেহাই পায় না। ফোনে তিনজনই বোর্ডের ওপরে দাঁড়ান, মাঝখানে অ্যাট্রোপোস।

বোর্ড পড়তে শিখুন

বোর্ডটা গোল। একদম মাঝখানে সোনার তৈরি একটা টাকু। তার চারদিকে মার্বেলের চার প্রস্থ চাকা, আর প্রতিটা চাকায় বারোটা খোপ কাটা। বারোটা সোজা রশ্মি ভেতর থেকে বাইরে চলে গেছে, ঘড়ির কাঁটার মতো। বাজি ঠিক করে ঘোরানোর বোতাম চাপলে চার চাকা একসঙ্গে ছোটে, তারপর একটার পর একটা থামে, সবচেয়ে ভেতরেরটা আগে, সবচেয়ে বাইরেরটা শেষে।

জয় সবসময় রশ্মি ধরে পড়া হয়, আর শুরু হয় মাঝখান থেকে। প্রথম তিনটে চাকায় একই চিহ্ন দেখা দিলে রশ্মি টাকা দেয়। একেবারে বাইরের চাকাতেও সেই চিহ্ন বসে গেলে রশ্মিটা পুরো চার ঘরের হয়, আর অঙ্ক বাড়ে। প্রতিটা রশ্মি শুধু নিজের সেরা লাইনটা দেয়, তবে আলাদা রশ্মির জয় একসঙ্গে যোগ হয়। পাশের পেটেবলে প্রতিটা চিহ্নের ৩ আর ৪ কলামের অঙ্ক লেখা, বেছে নেওয়া বাজি অনুযায়ী।

চিহ্ন দশটা, আর সবচেয়ে দামি থেকে শুরু করলে প্রথমে আসে বীণা, তারপর যোদ্ধার শিরস্ত্রাণ, অ্যাম্ফোরা কলস, নাটকের মুখোশ আর ত্রিশূল; তাদের নিচে লরেলের মুকুট, বেগুনি শঙ্খ আর ডালিম; আর সবচেয়ে সস্তা হাড়ের গুটি আর পেঁচা-আঁকা ওবোল মুদ্রা। টাকু জোকার, কাঁচি বাদে বাকি সবার জায়গা নেয়, কিন্তু মাঝের প্রথম চাকায় কখনও দেখা দেয় না, অর্থাৎ প্রতিটা রশ্মির শুরু একটা আসল চিহ্ন দিয়ে। কাঁচি বোনাস চিহ্ন, নামে কেবল সবচেয়ে বাইরের চাকায়।

বড় পর্দায় থেমে থাকা The Spindle of the Fates-এর বোর্ড, বাঁ দিকে ৩ আর ৪ কলামের রশ্মি-তালিকা, নিচে দুই দেবী

সোনালি সুতো: যে গুণক নিজেই বাড়ে

এটাই এই খেলার প্রাণ, আর কাজ করে প্রতিটা ঘোরানোয়। যে রশ্মিই জিতুক, তার সঙ্গে একটা সোনার সুতো টান টান হয়। তারপর ল্যাকেসিস যেকোনো একটা চাকা আবার চালান। এবার কোনো নতুন রশ্মি জিতলে তার অঙ্ক এখন পর্যন্ত টানা মোট সুতো দিয়ে গুণ হয়, আর সে-ও নিজের সুতো যোগ করে। গোড়ার জয়গুলো সাধারণ, মানে ×১-এ আসে। যতক্ষণ প্রতিটা পুনর্ঘূর্ণন নতুন সুতো আনে, ধারা চলে; যে ঘোরানোয় নতুন রশ্মি হয় না, গল্প সেখানে থামে।

একটা ঘোরানো, শুরু থেকে শেষ

ধরুন বাজি ২০ টাকা। চাকাগুলো ঘোরে আর ভেতর থেকে বাইরে থামে। পুবের রশ্মিতে তিনটে ডালিম: প্রথম সুতো। উত্তরের রশ্মিতে দুটো ত্রিশূল আর মাঝে একটা টাকু, যে ত্রিশূল হয়ে যায়: দ্বিতীয় সুতো। দুটো জয়ই ×১-এ মেলে। এবার ল্যাকেসিস লাঠি তোলেন, তৃতীয় চাকা আবার ঘোরে। থামতেই পশ্চিমের রশ্মিতে তিনটে মুখোশ জুড়ে যায়, আর এই নতুন জয় আসে ×৩-এ, কারণ এখন তিনটে সুতো টানা। ল্যাকেসিস আরেকবার ঘোরান, এবার দ্বিতীয় চাকা; নতুন কোনো রশ্মি তৈরি হয় না। সুতো এখানেই থামে, আর তিনটে জয়ের যোগফল আপনার ব্যালান্সে চলে যায়।

মোবাইলে The Spindle of the Fates-এর একটি জয়, গোল বোর্ডে ঝলমলে একটি রশ্মি

কাঁচির বোনাস: যখন ছোট চিহ্ন কাটা পড়ে

বাইরের চাকায় অন্তত তিনটে কাঁচি নামলে অ্যাট্রোপোসের বোনাস আসে ৮টা ফ্রি স্পিন নিয়ে; তৃতীয়টার পরে প্রতিটা বাড়তি কাঁচি আরও ২টা স্পিন যোগ করে, অর্থাৎ চারটেয় ১০, পাঁচটায় ১২, আর ওপরের সীমা ২০। এই বোনাসে তিনটে জিনিস বদলায়। এক: প্রতিটা ফ্রি স্পিন শুরুর আগে অ্যাট্রোপোস বোর্ডে টিকে থাকা সবচেয়ে কম দামি চিহ্ন সরিয়ে দেন, আর ক্রম বাঁধা: ওবোল সবার আগে, এরপর হাড়ের গুটি, শেষে ডালিম। তিনটে পর্যন্ত কাটা যায়, আর ফেরে না, তাই বোর্ডে দামি চিহ্নের ভিড় বাড়তে থাকে। দুই: বাইরের চাকা সোনালি হয়ে ওঠে, তার খোপে ×২, ×৩, ×৫ বা ×১০ ফুটে ওঠে, আর যে রশ্মির মাথায় যে সংখ্যা, তার অঙ্ক তত দিয়ে গুণ হয়। তিন: সোনালি সুতো এখানেও চলতে থাকে।

একই ফ্রি স্পিনের ভেতর বারোটা রশ্মিই সুতো টেনে ফেললে তাকে বলে মহা টাকু, এই খেলার সবচেয়ে বড় জয়। অঙ্কটা আমরা লিখছি না; শুধু এটুকু যে বারো সুতোই এর ছাদ। কাঁচির অপেক্ষা না করতে চাইলে বেগুনি বোতাম এই বোনাস ৮টা ফ্রি স্পিনসহ সেই মুহূর্তে কিনে দেয়, আর তার দাম খেলার পর্দায় লেখা থাকে।

ফোনে ফ্রি স্পিন: গুণক লেখা সোনালি বাইরের চাকা, আর ওপরে কেটে ফেলা চিহ্নগুলো

কার ভালো লাগবে, আর খেলার ছন্দ

এক জয় থেকে আরেক জয় বেরিয়ে আসতে দেখা যাঁদের পছন্দ, এই খেলা তাঁদের জন্য। সাধারণ ঘোরানো বেশির ভাগ সময় ছোট, আর উত্তেজনা আসে যখন ল্যাকেসিস দ্বিতীয়, তৃতীয়বার চাকা চালান। তাই এমন বাজি বাছুন যাতে লম্বা সময় খেলতে পারেন, যাতে সুতোর শিকল আর কাঁচি আসার সময় পায়। অটোপ্লে চাইলে বোনাসে নিজে থেকে থামে; টার্বো চাকাগুলো তাড়াতাড়ি থামায়, তবে সুতোর হিসাব চোখে সয়ে যাওয়ার পরেই সেটা চালু করুন।

চাকার খেলা, রিস্পিন স্লট আর এই মন্দির

একঝলক দেখলে এটাকে ভাগ্যের চাকার মতো লাগে, কিন্তু একটা বড় চাকার জায়গায় এখানে চারটে আলাদা চাকা, যেগুলো কম্বিনেশন তালার আংটির মতো রশ্মির ওপর চিহ্ন সাজায়। জয়ের হিসাব লাইন স্লটের মতো, শুধু লাইনগুলো সোজা পট্টির বদলে কেন্দ্র থেকে বাইরে যায়। আর সোনালি সুতো মনে করিয়ে দেয় সেই স্লটগুলোর কথা যেখানে জয়ের পর রিল আবার ঘোরে, তফাত এই যে এখানে একটা চাকা ঘোরে আর প্রতিটা নতুন জয়ের দাম সুতোর সঙ্গে বাড়ে। The Peacock Cube খেলে থাকলে দুটোর মধ্যে একটা মিল পাবেন: বোর্ড নড়ে, আপনি নন।

যেকোনো পর্দায়

ফোন সোজা থাকলে তিন বোন ওপরে, বোর্ড মাঝখানে, পেছনে সন্ধ্যার সমুদ্র; বোতাম নিচে বুড়ো আঙুলের কাছে। কাত করলে বোর্ড বড় দেখায়। কম্পিউটারে টেবিলটা বাঁ দিকে স্থির থাকে, যা নতুনদের কাজে লাগে। খেলাটা চলে ৩২টা ভাষায়, আরবি আর ফারসিতে ডান থেকে বাঁয়ে।

The Spindle of the Fates বিনামূল্যে আর ক্যাসিনোতে

গেম পেজে «খেলুন» চাপলেই মন্দির খুলে যায়, কোনো নিবন্ধন বা ডাউনলোড ছাড়া, আর অঙ্ক দেখা যায় ৫২টা মুদ্রা বা ১১টা ক্রিপ্টোতে। এটা স্লট আর নতুন রিলিজ দুই তালিকাতেই আছে, রিল না থাকা সত্ত্বেও। একই দিনের নৌযুদ্ধের খেলাও দেখে নিন: Ghost Fleet রিভিউ।

অপারেটররা খেলাটা পান SoftAggregator-এর মাধ্যমে: Nocturn Play-এর সব টাইটেল প্রতিটা খাতায় আগে থেকেই চালু, একটাই ইন্টিগ্রেশন আর ভাগ করা ওয়ালেট, শুরুর খরচ শূন্য, আর অংশ GGR-এর 8%।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

The Spindle of the Fates-এ রশ্মি কীভাবে জেতে?

মাঝখান থেকে গুনলে প্রথম তিনটে চাকায় এক রকম চিহ্ন থাকতে হবে, আর টাকু জোকার হয়ে ফাঁক ভরাতে পারে। চতুর্থ চাকাও মিললে অঙ্ক বাড়ে।

সোনালি সুতো কতক্ষণ চলে?

যতক্ষণ ল্যাকেসিসের প্রতিটা পুনর্ঘূর্ণন থেকে নতুন জয়ী রশ্মি তৈরি হয়। যে ঘোরানোয় নতুন সুতো টানা হয় না, ধারা সেখানেই থামে।

কাটা চিহ্ন কি ফিরে আসে?

সেই বোনাসে নয়। অ্যাট্রোপোস ওবোল, গুটি আর ডালিম ক্রমানুসারে সরান, আর ফ্রি স্পিন ফুরোনো পর্যন্ত সেগুলো বাইরে থাকে।

বাইরের চাকার গুণক কখন দেখা যায়?

শুধু ফ্রি স্পিনে। তখন বাইরের চাকা সোনালি, আর প্রতিটা খোপ ×২, ×৩, ×৫ বা ×১০ দিয়ে নিজের রশ্মির জয় বাড়ায়।

মহা টাকু কী?

একটাই বিনামূল্যের ঘোরানোয় বারোটা সুতোর সবকটা টান টান হওয়া; এর চেয়ে বড় জয় এই খেলায় নেই।

আরও গেম রিভিউ