Nocturn PlayNOCTURN PLAY
হোম › রিভিউ › The Peacock Cube রিভিউ

The Peacock Cube রিভিউ: যখন রত্ন দেয়াল বদলায়

রিল নেই, পেলাইনের লম্বা তালিকাও নেই; আছে একটা ঘনক, যে ঘোরে, মোচড় খায় আর রত্নকে এক দেয়াল থেকে আরেক দেয়ালে পৌঁছে দেয়। ৫ অক্টোবরের এই নতুন খেলাটা আমরা দান ধরে ধরে খুলে দেখেছি।

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬ · হালনাগাদ: ৫ অক্টোবর ২০২৬ · Nocturn Play

The Peacock Cube হলো Nocturn Play-এর তৈরি একটি ঘুরন্ত ৩D ঘনক, যার মার্বেলের টালিতে রত্ন বসানো; স্টুডিও এটি এনেছে ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর বিকেলে। রিলের জায়গায় এখানে ৩×৩×৩ ঘনক: আপনি এক, দুই বা তিনটি দিক খেলেন, প্রতি ঘোরানোয় ঘনকের কিছু স্তর পাক খায়, আর কোনো দিকের এক সরলরেখায় তিনটি হুবহু রত্ন দাঁড়ালে পুরস্কার মেলে। বোনাস পর্ব ময়ূরের রাত জয়ী রেখাগুলোকে সোনায় মুড়ে দেয়, আর nocturnplay.com-এ এটি চালাতে কোনো অ্যাকাউন্ট বা টাকা লাগে না।

চাঁদের আলোয় ডুবে থাকা এক মুঘল প্রাসাদ

পর্দা খুলতেই রাতের ঠান্ডা ভাবটা টের পাওয়া যায়। সাদা মার্বেলে সোনার পচ্চিকারি, গোল গম্বুজ আর সরু মিনারের পেছনে ভরা চাঁদ, আর সামনে এমন স্থির জল যে পুরো প্রাসাদটা তাতে দ্বিতীয়বার আঁকা মনে হয়। একটা সোনালি স্তম্ভে বসে ময়ূর, লেজ নিচে ঝুলিয়ে। উপশিরোনাম বলে «রত্নের প্রাসাদ», আর নামটা মানিয়ে যায়: এখানে সব কিছুই যেন জহুরির টেবিল থেকে উঠে এসেছে।

ঘনকের নিচে দুজন সঙ্গী। রাজকন্যার পরনে গাঢ় নীল শাড়ি, গলায় মুক্তোর লহর; তাঁর কাজ ছোট কিন্তু চোখে পড়ার মতো, প্রতিবার জয় এলে তিনি একটা হীরে মাথার ওপর তোলেন। বৃদ্ধ জহুরি ঠিক উল্টো মেজাজের: কমলা পাগড়ি, ধবধবে দাড়ি, এক চোখে গোল কাচ, আর হাতে পাতলা লাঠি, যেটা দিয়ে তিনি ঘনকের দিকে দেখান, যেন প্রতিটা পাথরের দাম কষছেন।

নিয়ম, এক ধাপ করে

প্রথম ধাপ: প্যানেলে প্রতি দিকের বাজির অঙ্ক বসান। এটা একটা দিকের দাম, পুরো দানের নয়। দ্বিতীয় ধাপ: কয়টা দিক গোনা হবে, বেছে নিন। এক বাছলে শুধু সামনের দিক হিসেবে আসবে; দুই বাছলে সামনে আর ডানদিক; তিন বাছলে মাথার ওপরের দিকটাও যোগ হবে। দানের মোট দাম হলো ওই বাজিকে দিকের সংখ্যা দিয়ে গুণ। তৃতীয় ধাপ: «ঘোরান» চাপুন।

তারপর ঘনকটা একবার পাক খায়, আর তার পরে কিছু স্তর, রঙিন ধাঁধা-কিউবের পাতের মতো, নিজের জায়গা থেকে সরে যায়। প্রতিটা স্তর সঙ্গে নিয়ে যায় এক সারি রত্ন, কখনও সামনে থেকে ওপরে, কখনও ডানদিক থেকে সামনে। সব থামলে তবেই খেলা দিকগুলোর হিসাব হয়।

প্রতিটা নিয়ম, সহজ কথায়

রেখা: প্রতিটা দিক নয় ঘরের একটা চৌকো, তাতে আট রকম রেখা গোনা হয়, তিনটা আড়াআড়ি, তিনটা খাড়া আর দুটো তেরছা। কোনো রেখায় একই রত্ন তিনবার দেখা দিলে সেই রেখা টাকা দেয়, আর একাধিক রেখা হলে তাদের অঙ্ক যোগ করা হয়।

জোকার: সাদা রত্ন যে কোনো রত্নের ঘাটতি পূরণ করে। দুটো চুনি আর একটা সাদা রত্ন মানে চুনির রেখা।

পূর্ণ তল: কোনো খেলা দিকের নয়টা রত্নই এক রকম হলে গোটা দিক একসঙ্গে বড় অঙ্ক দেয়।

রত্নের ক্রম: সবচেয়ে দামি হাতি, তার নিচে পাগড়ির কলগি, তারপর ছোরা আর সোনালি ময়ূর; মাঝামাঝি চুনি আর লাপিস লাজুলি; একদম নিচে মুক্তা আর কার্নেলিয়ান। পর্দার বাঁয়ের পেটেবল প্রতিটার মূল্য আপনার বেছে নেওয়া বাজিতে টাকার অঙ্কে লিখে রাখে।

ময়ূরের পালক: এটা বোনাস চিহ্ন, আর এর একটা মজার নিয়ম আছে: পালক গোনা হয় দেখা তিনটে দিকেই, আপনি একটা দিক খেললেও। রাতের দৈর্ঘ্য পালকের ওপর: তিনে ৮ স্পিন, চারে ১০, পাঁচে ১২।

একটা দান, গল্পের মতো করে

ধরা যাক প্রতি দিকে ৫ টাকা রাখলেন আর তিনটে দিকই নিলেন, অর্থাৎ দান ১৫ টাকার। ঘনক পাক খায়, ওপরের স্তর বাঁয়ে ঘোরে, মাঝের খাড়া পাত নিচে নামে। সামনের দিকের মাঝের সারিতে এসে বসে দুটো লাপিস লাজুলি আর একটা সাদা রত্ন: একটা রেখা হলো। ডানদিকের তেরছা বরাবর তিনটে মুক্তা: দ্বিতীয় রেখা। দুটোর অঙ্ক যোগ হয়ে জমা পড়ে, আর রাজকন্যা হীরে তোলেন। ওদিকে ওপরের দিকে দুটো ময়ূরের পালক ঝিকমিক করছে, আর সামনের কোণে আরেকটা। মোট তিনটে, যেখানেই থাকুক: জহুরির লাঠি উঠে যায়, আর রাত নামে।

ফোনে The Peacock Cube-এর একটি জয়, নীল শাড়ির রাজকন্যা হাতে হীরে তুলে ধরেছেন

ময়ূরের রাতের ভেতরে

রাতে স্পিনগুলো নিজে নিজে চলে, আর সবসময় তিন দিকেই, সাধারণ খেলায় আপনি যতগুলোই দিক বেছে থাকুন; মোট বাজি তিন ভাগে সমান ভাগ হয়। এবার প্রতিটা জয়ী রেখার ঘরে সোনার প্রলেপ পড়ে, আর সেটা আর ওঠে না। স্তর ঘুরলে সোনালি ঘরগুলোও সঙ্গে পাড়ি দেয়, তাই সোনা ধীরে ধীরে গোটা ঘনকে ছড়িয়ে পড়ে।

সোনালি ঘর পরের জয়কে বড় করে। সোনালি একটা ঘর যে নতুন রেখার অংশ হয়, সেই রেখার অঙ্ক দ্বিগুণ, দুটো থাকলে তিনগুণ, পুরো রেখাই সোনালি হলে চারগুণ। কোনো দিক আগাগোড়া সোনায় ঢেকে গেলে তার বদলে একটা গুপ্তধন মেলে, তারপর সেই দিক আবার সাদা পাথরে ফেরে আর সোনা নতুন করে জমতে শুরু করে। রাত চলাকালীন ফের তিনটে পালক উঠলে পাঁচটা স্পিন যোগ হয়, তবে গোনা ৩০-এর ওপরে যায় না। ঘনকের মাথার কাউন্টারে বাকি স্পিন, সোনালি দিকের সংখ্যা আর রাতের এখন পর্যন্ত জেতা অঙ্ক দেখা যায়।

সবচেয়ে উঁচু মুহূর্ত তখন, যখন দেখা তিনটে দিক একসঙ্গে সোনায় মুড়ে যায়। সেই মুহূর্তে পুরো ঘনক স্বর্ণ হয়ে ওঠে, আর এর ওপরে এই খেলায় আর কিছু নেই। অঙ্কটা আমরা এখানে লিখছি না; শুধু জেনে রাখুন, ঘনকের ছাদ এটাই।

মোবাইলে ময়ূরের রাত, ঘনকের অনেকগুলো ঘর আগেই সোনালি, আর দুটি জয়ী রেখা জ্বলছে

কোন খেলোয়াড়ের জন্য, আর দানের গতি

জিনিস ঘুরে জায়গা বদলাচ্ছে, এটা দেখতে যাঁর ভালো লাগে, এই ঘনক তাঁর জন্য। এখানে দিকের সংখ্যাই আপনার গতি ঠিক করে। একটা দিকে প্রতিটা দান সস্তা, কিন্তু চোখের সামনে থাকা বেশির ভাগ রত্ন হিসেবে আসে না; তখন আসলে আপনি পালকের অপেক্ষায় খেলছেন, কারণ সেগুলো সব দিকেই গোনা হয়। তিনটে দিক প্রতিটা দানকে ব্যস্ত করে, রেখা বেশি হয়, খরচও তিনগুণ। মাঝের পথ দুটো দিক। পরামর্শ একটাই: শুরুতে একটা বাজি আর একটা দিক-সংখ্যা ঠিক করে কিছুক্ষণ সেটাই চালান। পালকের অপেক্ষা লম্বা মনে হলে রাতটা কিনেও নেওয়া যায়, তার দাম খেলার ভেতরে লেখা থাকে। অটোপ্লে বেছে নেওয়ার সময় ঠিক করে দেওয়া যায় যে বোনাস এলে সে থামবে, আর টার্বো স্তরের মোচড়ের সময় কমিয়ে দেয়।

ম্যাচ-৩ আর ধাঁধা-কিউব: মিল কোথায়, অমিল কোথায়

হঠাৎ দেখলে একে ম্যাচ-৩ ধরনের রত্নের খেলা মনে হয়, আর খানিকটা তা-ই: এক লাইনে তিনটে এক রকম পাথর। তফাত হলো, এখানে আপনি রত্ন সরান না, ঘনক নিজেই তার স্তর ঘোরায়, ঠিক সেই বিখ্যাত রঙিন ধাঁধা-কিউবের মতো, যা ছোটবেলায় অনেকেই হাতে নিয়ে ঘুরিয়েছেন। সাধারণ «জুয়েল» স্লটে পাথর ওপর থেকে ঝরে পড়ে; এখানে পাথর ঘনকের কিনারা পেরিয়ে অন্য দেয়ালে যায়, আর সোনার প্রলেপও সেই যাত্রার সঙ্গী হয়। তিনটে দিক একসঙ্গে পড়তে প্রথমে একটু অচেনা লাগে, দু-তিন দানেই চোখ অভ্যস্ত হয়ে যায়।

মোবাইলে

ফোন সোজা রাখলে ঘনক থাকে ওপরে, তার নিচে রাজকন্যা আর জহুরি, আর সব বোতাম একদম নিচে বুড়ো আঙুলের নাগালে। ফোন কাত করলে ঘনক এক পাশে আর নিয়ন্ত্রণ অন্য পাশে সরে যায়। ট্যাবলেট বা ডেস্কটপেও একই খেলা সরাসরি ব্রাউজারে চলে। সব মিলিয়ে ৩২টা ভাষা বেছে নেওয়া যায়, আরবি আর ফারসির লেখা চলে ডান দিক থেকে, আর বাংলায় নামগুলো ঠিক যেমন এই রিভিউতে পড়ছেন।

আড়াআড়ি ধরা ফোনে The Peacock Cube, একপাশে ঘনক আর অন্য পাশে বাজি ও তল বাছাইয়ের বোতাম

The Peacock Cube কোথায় খেলবেন

The Peacock Cube-এর গেম পেজ খুলে «খেলুন» চাপুন: না অ্যাকাউন্ট, না ডাউনলোড, আর টাকার অঙ্ক চাইলে ৫২ রকম প্রচলিত মুদ্রায় কিংবা ১১ রকম ক্রিপ্টোয় দেখা যায়। ক্যাটালগে এটা নতুন রিলিজের তালিকায় পাবেন, স্লটের তালিকাতেও, যদিও একটাও রিল নেই। একই দিনে আসা আরও দুটো খেলার রিভিউ পড়ুন: The Spindle of the Fates আর Ghost Fleet।

ক্যাসিনো চালান? SoftAggregator-এ যে কোনো ক্লায়েন্ট খাতা খুললেই এই ঘনক আলাদা কিছু না করে লবিতে হাজির থাকে। একটা API, seamless wallet, শুরুর কোনো ফি নেই, আর হিসাব GGR-এর 8%।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

The Peacock Cube-এ এক দানের দাম কীভাবে হিসাব হয়?

প্রতি দিকের বাজিকে খেলা দিকের সংখ্যা দিয়ে গুণ করুন। প্রতি দিকে ৫ টাকা রেখে দুটো দিক খেললে দান হবে ১০ টাকার।

একটা দিক খেললে কি বোনাস কম আসবে?

পালক সবসময় দেখা তিনটে দিকেই গোনা হয়, তাই ময়ূরের রাত খোলার পথ বদলায় না। পার্থক্য শুধু এই যে সাধারণ ঘোরানোয় রেখা গোনা হয় কেবল বেছে নেওয়া দিকে।

রাত শেষ হলেও কি সোনালি ঘর থেকে যায়?

না। সোনার প্রলেপ কেবল ময়ূরের রাতের ভেতরেই টিকে থাকে; রাত ফুরোলে ঘনক আবার পুরোটাই মার্বেলের।

ময়ূরের রাত কি সরাসরি কেনা যায়?

হ্যাঁ। নিয়ন্ত্রণের পাশের কমলা বোতামটা রাতকে ৮টা স্পিন দিয়ে তখনই শুরু করে; তার দাম বেছে নেওয়া বাজির অনুপাতে খেলার ভেতরে লেখা থাকে।

ঘনকের সর্বোচ্চ জয় কীভাবে আসে?

শর্ত একটাই: বোনাস চলাকালীন ওপর, সামনে আর ডান দিকের দেয়াল একসঙ্গে পুরো সোনার হতে হবে। সেই মুহূর্তে ঘনক সোনালি হয়ে যায় আর দান খেলার ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত টাকা দেয়।

আরও গেম রিভিউ